বাংলাদেশে ব্যাগের পাইকারি দাম: ধরনভেদে মূল্য ও কাস্টম অর্ডার খরচ

বাংলাদেশে পাইকারি ব্যাগের দাম একেক ধরনের ব্যাগ, মান ও ব্যবহারের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে যায়। সব ব্যাগের জন্য এক দাম ধরে হিসাব করা ঠিক নয়, কারণ অর্ডারের পরিমাণ বাড়লে প্রতি পিসের খরচও অনেক সময় কমে আসে। ফেব্রিকের ধরন, ব্যাগের আকার, জিপার, লাইনিং ও প্যাডিংয়ের মান দামের বড় অংশ নির্ধারণ করে। এর সঙ্গে প্রিন্টিং, লোগো, ব্র্যান্ডিং বা বিশেষ নকশা যোগ হলে মোট খরচও বদলে যেতে পারে। তাই পাইকারি অর্ডারের আগে শুধু দাম নয়, ব্যাগের মান, প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য এবং মোট পরিমাণ একসঙ্গে বিবেচনা করা ভালো।

বাংলাদেশে ব্যাগের পাইকারি দাম

এই গাইডে স্কুল ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, ল্যাপটপ ব্যাগ, অফিস ও কর্পোরেট ব্যাগ, ট্রাভেল ও ডাফল ব্যাগ এবং প্রমোশনাল ও কাস্টম ব্যাগের আনুমানিক পাইকারি দামসহ দাম নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে।

পাইকারি দাম জানুন

বাংলাদেশে ব্যাগের পাইকারি দাম কত?

বাংলাদেশে ব্যাগের পাইকারি দাম ব্যাগের ধরণ, উপকরণ, আকার, নকশা এবং অর্ডারের পরিমাণ অনুযায়ী বেশ ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ স্কুল ব্যাগ বা প্রমোশনাল ব্যাগের দাম তুলনামূলক কম হলেও ল্যাপটপ, কর্পোরেট বা উন্নত মানের ট্রাভেল ব্যাগের দাম বেশি হয়। তাই সঠিক দাম জানতে নির্দিষ্ট ব্যাগের ধরন ও প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য ধরে হিসাব করা সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।

নিচে স্কুল ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, ল্যাপটপ ব্যাগ, অফিস ব্যাগ, ট্রাভেল ব্যাগ, প্রমোশনাল ব্যাগ ও কাস্টম ব্যাগের পাইকারি দাম সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

স্কুল ব্যাগের পাইকারি দাম

বাংলাদেশে স্কুল ব্যাগের পাইকারি দাম ব্যাগের আকার, কাপড়, প্যাডিং, চেইন, পকেটের সংখ্যা ও অর্ডারের পরিমাণ অনুযায়ী বদলে যায়। বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় দেশে তৈরি স্কুল ব্যাগের আনুমানিক পাইকারি দাম সাধারণত প্রতি পিস ১০০ টাকা থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

স্কুল ব্যাগের ধরন আনুমানিক পাইকারি দাম (প্রতি পিস)
সাধারণ স্কুল ব্যাগ ১০০–৩৫০ টাকা
মাঝারি মানের স্কুল ব্যাগ ৩৫০–৬০০ টাকা
প্যাডিং ও একাধিক পকেটযুক্ত স্কুল ব্যাগ ৫৫০–৯০০ টাকা
লোগোসহ কাস্টম স্কুল ব্যাগ ৬০০–১,০০০ টাকা
উন্নত মানের বড় স্কুল ব্যাগ ৯০০–১,৫০০ টাকা
আমদানি করা স্কুল ব্যাগ ৫০০–১,৮০০ টাকা
নোট: এই গাইডে দেওয়া দামগুলো ২০২৬ সালের বাজারদর ও পাইকারি অর্ডারের সাধারণ মূল্যসীমা বিবেচনায় আনুমানিকভাবে দেওয়া হয়েছে। ব্যাগের কাপড়, মাপ, জিপার, প্যাডিং, নকশা, লোগো, অর্ডারের পরিমাণ ও উৎপাদনের সময় অনুযায়ী প্রকৃত দাম কম-বেশি হতে পারে। নির্দিষ্ট অর্ডারের সঠিক দাম জানতে কোটেশন নেওয়া প্রয়োজন।

ব্যাকপ্যাকের পাইকারি দাম

বাংলাদেশে ব্যাকপ্যাকের পাইকারি দাম সাধারণত ব্যাগের আকার, কাপড়ের মান, প্যাডিং, চেইন, পকেটের সংখ্যা ও অর্ডারের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। বর্তমান পাইকারি ও প্রস্তুতকারক পর্যায়ের বাজারদর মিলিয়ে সাধারণ ব্যাকপ্যাক থেকে উন্নত মানের প্যাডেড ব্যাকপ্যাকের দাম বেশ বিস্তৃত পরিসরে দেখা যায়।

ব্যাকপ্যাকের ধরন আনুমানিক পাইকারি দাম (প্রতি পিস)
সাধারণ ছোট ব্যাকপ্যাক ৩০০–৫০০ টাকা
মাঝারি মানের দৈনন্দিন ব্যাকপ্যাক ৫০০–৭০০ টাকা
একাধিক পকেটযুক্ত ব্যাকপ্যাক ৬০০–৮৫০ টাকা
প্যাডিংযুক্ত ল্যাপটপ ব্যাকপ্যাক ৭০০–১,১০০ টাকা
লোগোসহ কাস্টম ব্যাকপ্যাক ৬৫০–১,০০০ টাকা
উন্নত মানের বড় ব্যাকপ্যাক ৯০০–১,৫০০ টাকা
নোট: উপরের দামগুলো বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় তৈরি একটি আনুমানিক পরিসর। কাপড়ের ধরন, মাপ, প্যাডিং, চেইন, নকশা, লোগো, পকেটের সংখ্যা এবং মোট অর্ডারের পরিমাণ অনুযায়ী প্রকৃত পাইকারি দাম কম-বেশি হতে পারে। সর্বশেষ হালনাগাদ: আগস্ট ২০২৬।

ল্যাপটপ ব্যাগের পাইকারি দাম

বাংলাদেশে ল্যাপটপ ব্যাগের পাইকারি দাম সাধারণত ব্যাগের আকার, কাপড়, প্যাডিং, চেইন, কক্ষের সংখ্যা ও বহনের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় সাধারণ ল্যাপটপ ব্যাগ থেকে উন্নত মানের প্যাডেড ও বহুমুখী ব্যাগের পাইকারি দাম নিচের পরিসরে ধরা যেতে পারে।

ল্যাপটপ ব্যাগের ধরন আনুমানিক পাইকারি দাম (প্রতি পিস)
সাধারণ ল্যাপটপ স্লিভ ব্যাগ ২০০–৩৫০ টাকা
সাধারণ হাতলযুক্ত ল্যাপটপ ব্যাগ ৩০০–৫০০ টাকা
প্যাডিংযুক্ত ল্যাপটপ ব্যাগ ৪০০–৬৫০ টাকা
কাঁধে বহনযোগ্য অফিস ও ল্যাপটপ ব্যাগ ৪৫০–৭০০ টাকা
ল্যাপটপ রাখার অংশসহ ব্যাকপ্যাক ৫৫০–৮৫০ টাকা
একাধিক কক্ষযুক্ত ল্যাপটপ ব্যাকপ্যাক ৭০০–১,০০০ টাকা
ওয়াটারপ্রুফ ও উন্নত প্যাডিংযুক্ত ল্যাপটপ ব্যাগ ৮০০–১,২০০ টাকা
উন্নত মানের ব্যবসায়িক ল্যাপটপ ব্যাগ ১,০০০–১,৫০০ টাকা
নোট: উপরের দামগুলো বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় তৈরি একটি আনুমানিক পাইকারি মূল্যসীমা। কাপড়ের মান, ব্যাগের মাপ, প্যাডিং, চেইন, নকশা, কক্ষের সংখ্যা, লোগো সংযোজন এবং মোট অর্ডারের পরিমাণ অনুযায়ী প্রকৃত দাম কম-বেশি হতে পারে।

অফিস ও কর্পোরেট ব্যাগের পাইকারি দাম

বাংলাদেশে অফিস ও কর্পোরেট ব্যাগের পাইকারি দাম সাধারণত ব্যাগের কাপড়, আকার, প্যাডিং, চেইন, ভেতরের কক্ষ ও অর্ডারের পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। বর্তমান পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের পার্থক্য বিবেচনায় নিচের পরিসরগুলো একটি ব্যবহারযোগ্য গড় অনুমান হিসেবে ধরা যেতে পারে।

ব্যাগের ধরন আনুমানিক পাইকারি দাম (প্রতি ব্যাগ)
সাধারণ অফিস ব্যাগ ৩০০–৪৫০ টাকা
মাঝারি মানের অফিস ব্যাগ ৪০০–৬০০ টাকা
প্যাডিংযুক্ত ল্যাপটপ ও অফিস ব্যাগ ৫০০–৮০০ টাকা
লোগোসহ কর্পোরেট ব্যাগ ৪৫০–৭৫০ টাকা
একাধিক কক্ষযুক্ত উন্নত অফিস ব্যাগ ৬৫০–১,০০০ টাকা
কৃত্রিম চামড়ার কর্পোরেট ব্যাগ ৮০০–১,৫০০ টাকা
উন্নত মানের নির্বাহী অফিস ব্যাগ ১,০০০–২,০০০ টাকা
নোট: এগুলো আনুমানিক পাইকারি দামের পরিসর। কাপড়ের ধরন, মাপ, চেইন, প্যাডিং, নকশা, লোগো, অর্ডারের পরিমাণ ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রকৃত দাম কম-বেশি হতে পারে।

ট্রাভেল ও ডাফল ব্যাগের পাইকারি দাম

বাংলাদেশে ট্রাভেল ও ডাফল ব্যাগের পাইকারি দাম ব্যাগের আকার, কাপড়ের মান, ধারণক্ষমতা, চেইন, হাতল, কাঁধের বেল্ট ও ভেতরের ভাগের ওপর নির্ভর করে। বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় সাধারণ ভ্রমণ ব্যাগ থেকে উন্নত মানের ডাফল ব্যাগ পর্যন্ত দামের পরিসর বেশ ভিন্ন হতে পারে।

ব্যাগের ধরন আনুমানিক পাইকারি দাম (প্রতি পিস)
সাধারণ ছোট ট্রাভেল ব্যাগ ২৫০–৪০০ টাকা
মাঝারি আকারের ট্রাভেল ব্যাগ ৩৫০–৫৫০ টাকা
সাধারণ ডাফল ব্যাগ ৪০০–৬৫০ টাকা
বড় ধারণক্ষমতার ডাফল ব্যাগ ৫৫০–৮৫০ টাকা
জিম ও ভ্রমণের উপযোগী ডাফল ব্যাগ ৫০০–৮০০ টাকা
জুতা রাখার আলাদা অংশসহ ডাফল ব্যাগ ৭০০–১,১০০ টাকা
ওয়াটারপ্রুফ কাপড়ের উন্নত ট্রাভেল ব্যাগ ৮০০–১,৩০০ টাকা
উন্নত মানের বহুমুখী ডাফল ব্যাগ ১,০০০–১,৫০০ টাকা
নোট: উপরের দামগুলো বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় তৈরি আনুমানিক পাইকারি মূল্যসীমা। কাপড়, মাপ, ধারণক্ষমতা, চেইন, প্যাডিং, নকশা, অতিরিক্ত অংশ, ব্র্যান্ডিং এবং অর্ডারের পরিমাণ অনুযায়ী প্রকৃত দাম কম-বেশি হতে পারে।

প্রমোশনাল ও কাস্টম ব্যাগের পাইকারি দাম

বাংলাদেশে প্রমোশনাল ও কাস্টম ব্যাগের পাইকারি দাম ব্যাগের উপকরণ, আকার, ছাপার ধরন, লোগোর নকশা এবং অর্ডারের পরিমাণ অনুযায়ী বদলে যায়। সাধারণ নন-ওভেন ব্যাগের দাম তুলনামূলক কম, আর জুট, ক্যানভাস বা উন্নত নকশার কাস্টম ব্যাগে খরচ কিছুটা বেশি হয়।

প্রমোশনাল ও কাস্টম ব্যাগের ধরন আনুমানিক পাইকারি দাম (প্রতি পিস)
সাধারণ নন-ওভেন প্রমোশনাল ব্যাগ ৮০–১৫০ টাকা
লোগো ছাপানো নন-ওভেন ব্যাগ ১২০–২০০ টাকা
সাধারণ কটন বা ড্র-স্ট্রিং প্রমোশনাল ব্যাগ ১২০–২৫০ টাকা
কাস্টম লোগোসহ জুট ব্যাগ ১৭৫–৩০০ টাকা
কটন ও জুট মিশ্র কাপড়ের কাস্টম ব্যাগ ২০০–৩৫০ টাকা
ক্যানভাস প্রমোশনাল টোট ব্যাগ ২৫০–৪৫০ টাকা
লোগোসহ কাস্টম অফিস বা ইভেন্ট ব্যাগ ৩৫০–৬৫০ টাকা
উন্নত নকশা ও একাধিক অংশযুক্ত কাস্টম ব্যাগ ৫০০–৯০০ টাকা
নোট: উপরের দামগুলো একটি আনুমানিক পাইকারি মূল্যসীমা। ব্যাগের উপকরণ, মাপ, কাপড়ের পুরুত্ব, ছাপার রং, লোগোর আকার, হাতল, চেইন, প্যাকেজিং এবং মোট অর্ডারের পরিমাণ অনুযায়ী প্রকৃত দাম কম-বেশি হতে পারে।

ব্যাগের পাইকারি দাম কী কী বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?

একই ধরনের ব্যাগ হলেও সব অর্ডারে প্রতি পিসের দাম এক হয় না। কাপড়, আকার, নকশা, ভেতরের গঠন, চেইন, লোগো ও অর্ডারের পরিমাণ, সবকিছু মিলিয়েই শেষ দাম ঠিক হয়। তাই পাইকারি ব্যাগের দাম বোঝার আগে পণ্যের পুরো বৈশিষ্ট্য পরিষ্কার করা জরুরি।

ফেব্রিক ও ম্যাটেরিয়াল

ব্যাগ তৈরিতে কোন ধরনের কাপড় বা উপকরণ ব্যবহার করা হবে, সেটি দামের বড় একটি অংশ নির্ধারণ করে। কাপড়ের পুরুত্ব, মান, স্থায়িত্ব ও জল প্রতিরোধের ক্ষমতা অনুযায়ী খরচ বাড়তে বা কমতে পারে। একই নকশার ব্যাগ হলেও উপকরণ বদলালে প্রতি পিসের দামও বদলে যায়।

ব্যাগের সাইজ ও ডিজাইন

ছোট ও সাধারণ নকশার ব্যাগ তৈরিতে সাধারণত কম কাপড় ও কম সময় লাগে। বড় আকার, ভিন্ন আকৃতি বা জটিল নকশা হলে কাপড়ের ব্যবহার ও সেলাইয়ের কাজ দুটোই বাড়ে। ফলে ব্যাগের সাইজ ও ডিজাইন সরাসরি উৎপাদন খরচে প্রভাব ফেলে।

কম্পার্টমেন্ট, লাইনিং ও প্যাডিং

একটি ব্যাগে যত বেশি আলাদা অংশ, ভেতরের আস্তরণ ও প্যাডিং থাকবে, তৈরির কাজ তত বাড়বে। বিশেষ করে ল্যাপটপ ব্যাগ, অফিস ব্যাগ বা উন্নত ব্যাকপ্যাকে অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য মোটা প্যাডিং লাগতে পারে। এসব বাড়তি উপকরণ ও সেলাই প্রতি পিসের দাম কিছুটা বাড়িয়ে দেয়।

জিপার, বাকল ও অ্যাক্সেসরিজ

চেইন, বাকল, হুক, বেল্ট, হাতল ও অন্যান্য ছোট যন্ত্রাংশের মানও ব্যাগের মোট দামের সঙ্গে জড়িত। উন্নত মানের চেইন বা টেকসই বাকল ব্যবহার করলে খরচ সাধারণ মানের উপকরণের তুলনায় বেশি হতে পারে। ব্যাগে যত বেশি অ্যাক্সেসরিজ থাকবে, উৎপাদন খরচও সাধারণত তত বাড়বে।

লোগো প্রিন্টিং ও এমব্রয়ডারি

কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান বা প্রচারণার জন্য ব্যাগে লোগো যোগ করলে আলাদা খরচ ধরা হয়। লোগোর আকার, রঙের সংখ্যা, ছাপার পদ্ধতি এবং এমব্রয়ডারির জটিলতার ওপর সেই খরচ নির্ভর করে। একটি সাধারণ এক রঙের লোগোর তুলনায় বড় বা বহু রঙের নকশার খরচ বেশি হতে পারে।

অর্ডার কোয়ান্টিটি

পাইকারি অর্ডারে মোট কত পিস ব্যাগ তৈরি হবে, সেটি প্রতি পিসের দাম নির্ধারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অর্ডারের পরিমাণ বেশি হলে কাপড় কেনা, কাটিং, ছাপা ও উৎপাদনের খরচ অনেক ক্ষেত্রে বড় পরিমাণে ভাগ হয়ে যায়। তাই একই বৈশিষ্ট্যের ব্যাগে বড় অর্ডারে প্রতি পিসের দাম তুলনামূলক কম হতে পারে।

ফ্যাক্টরি প্রাইস আর বাজারের পাইকারি দামের মধ্যে পার্থক্য কী?

ফ্যাক্টরি থেকে সরাসরি ব্যাগ নিলে দাম সাধারণত উৎপাদন খরচ, উপকরণ, নকশা ও অর্ডারের পরিমাণ ধরে নির্ধারিত হয়। অন্যদিকে বাজারের পাইকারি দামে পরিবহন, মজুত, মধ্যস্বত্বভোগী ও বিক্রেতার মুনাফা যুক্ত থাকতে পারে।

বিষয় ফ্যাক্টরি প্রাইস বাজারের পাইকারি দাম
দামের ভিত্তি উৎপাদন খরচ ও নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে প্রস্তুত পণ্যের ক্রয়মূল্য, পরিবহন ও বিক্রেতার মুনাফার ওপর নির্ভর করে
অর্ডারের পরিমাণ সাধারণত ন্যূনতম অর্ডারের পরিমাণ থাকে তুলনামূলক কম সংখ্যক ব্যাগও কেনা যেতে পারে
কাস্টম ডিজাইন প্রয়োজন অনুযায়ী নকশা পরিবর্তনের সুযোগ বেশি প্রস্তুত নকশা থেকেই সাধারণত বেছে নিতে হয়
লোগো ও ব্র্যান্ডিং অর্ডার অনুযায়ী লোগো, প্রিন্ট বা এমব্রয়ডারি করা যায় অনেক ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডিংয়ের সুযোগ সীমিত থাকে
উপকরণ নির্বাচন কাপড়, চেইন, প্যাডিং ও অন্যান্য উপকরণ আগে নির্ধারণ করা যায় প্রস্তুত ব্যাগের উপকরণ পরিবর্তনের সুযোগ থাকে না
প্রতি পিসের দাম বড় অর্ডারে তুলনামূলক কম হতে পারে মধ্যবর্তী খরচ যুক্ত থাকায় কিছু ক্ষেত্রে দাম বেশি হতে পারে
সরবরাহের সময় উৎপাদনের জন্য নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন হয় প্রস্তুত পণ্য থাকলে দ্রুত সংগ্রহ করা যায়
একই মান বজায় রাখা বড় ও পুনরায় অর্ডারে একই বৈশিষ্ট্য ধরে রাখা সহজ একই মডেল বা মান সব সময় পাওয়া নাও যেতে পারে
কার জন্য উপযোগী প্রতিষ্ঠান, পাইকার, খুচরা বিক্রেতা ও বড় অর্ডারকারী ছোট ব্যবসা, সীমিত পরিমাণের ক্রেতা ও তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের জন্য উপযোগী

কোন ধরনের ক্রেতা পাইকারি ব্যাগ অর্ডার করতে পারেন?

পাইকারি ব্যাগ শুধু দোকানদার বা পরিবেশকের জন্য নয়। ব্যবসা, শিক্ষা, কর্পোরেট ব্যবহার, প্রচারণা বা বড় কোনো প্রকল্পের প্রয়োজনেও একসঙ্গে বেশি সংখ্যক ব্যাগ অর্ডার করা যায়।

  • খুচরা বিক্রেতা
  • পাইকারি ব্যবসায়ী
  • পরিবেশক
  • কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান
  • স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  • এনজিও ও উন্নয়ন সংস্থা
  • সরকারি প্রকল্প ও দরপত্রের ক্রেতা
  • ওষুধ কোম্পানি
  • খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান
  • প্রচারণা ও ইভেন্ট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান

পাইকারি ব্যাগ অর্ডারের আগে যে বিষয়গুলো যাচাই করবেন

পাইকারি ব্যাগের বড় অর্ডার দেওয়ার আগে শুধু দাম দেখলেই যথেষ্ট নয়। নমুনা, উপকরণ, মাপ, সেলাই, লোগো ও সরবরাহের শর্ত আগে যাচাই করলে পরে ভুল বা অতিরিক্ত খরচের ঝুঁকি কমে।

  • নমুনা ব্যাগের মান
  • কাপড় বা উপকরণের ধরন
  • ব্যাগের সঠিক মাপ
  • সেলাই ও ফিনিশিং
  • চেইন, বাকল ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ
  • লাইনিং ও প্যাডিংয়ের মান
  • লোগো, প্রিন্ট বা এমব্রয়ডারি
  • রং ও নকশার মিল
  • প্যাকেজিংয়ের ধরন
  • উৎপাদন ও সরবরাহের সময়সীমা

পাইকারি ব্যাগ তৈরির জন্য সিটিবি ব্যাগ ম্যানুফ্যাকচারার কে কেন বেছে নেবেন?

বাংলাদেশে একটি বিশ্বস্ত ব্যাগ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের পাইকারি, কাস্টম ও কর্পোরেট ব্যাগ তৈরি করে আসছে। ঢাকার নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন সুবিধা, দক্ষ জনবল এবং বড় অর্ডার পরিচালনার সক্ষমতার কারণে ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাগ তৈরি করা সহজ হয়।

  • ২০০০ সাল থেকে ব্যাগ তৈরির অভিজ্ঞতা: দীর্ঘদিনের উৎপাদন অভিজ্ঞতা বিভিন্ন ধরনের পাইকারি ও কাস্টম অর্ডার পরিচালনায় বাড়তি সুবিধা দেয়।
  • ঢাকায় নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন সুবিধা: দক্ষিণ মান্ডা, মুগদায় প্রায় ৮,০০০ বর্গফুটের ফ্যাক্টরিতে ব্যাগ উৎপাদনের কাজ পরিচালিত হয়।
  • ২০০টির বেশি উৎপাদন মেশিন: বড় অর্ডারকে পরিকল্পিতভাবে উৎপাদনে নেওয়ার জন্য কারখানায় পর্যাপ্ত মেশিন সুবিধা রয়েছে।
  • ২০০-এর বেশি দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবী: কাটিং, সেলাই, ফিনিশিং ও মান যাচাইয়ের বিভিন্ন ধাপে অভিজ্ঞ জনবল কাজ করেন।
  • দৈনিক ১,০০০টির বেশি ব্যাগ তৈরির সক্ষমতা: নকশা ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বড় পরিমাণের অর্ডারও উৎপাদন পরিকল্পনায় নেওয়া যায়।
  • ৫০ পিস থেকে অর্ডারের সুযোগ: তুলনামূলক ছোট ব্যবসা বা পরীক্ষামূলক কাস্টম অর্ডারের জন্যও কাজ শুরু করা সম্ভব।
  • নিজস্ব নকশা ও ব্র্যান্ডিংয়ের সুবিধা: প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাগের আকার, রং, লোগো, প্রিন্ট ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা যায়।
  • মানসম্মত জিপার ও উপকরণের ব্যবহার: ব্যাগের ব্যবহারযোগ্যতা ও স্থায়িত্ব বিবেচনায় প্রিমিয়াম চেইনসহ নির্ধারিত মানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়।
কোটেশন ও পরামর্শ নিন

সরাসরি প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে পাইকারি ব্যাগের কোটেশন নিন

আপনার ব্যবসা, প্রতিষ্ঠান বা বড় প্রকল্পের জন্য পাইকারি ব্যাগ প্রয়োজন হলে থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টম ব্যাগ তৈরি করাতে পারেন। ব্যাগের ধরন, পরিমাণ, নকশা, লোগো ও প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী অর্ডারের বিস্তারিত আগে থেকেই নির্ধারণ করা যায়। ছোট পরিমাণের কাস্টম অর্ডার থেকে শুরু করে বড় পাইকারি সরবরাহ পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী উৎপাদনের ব্যবস্থা রয়েছে।

আপনার প্রয়োজনীয় ব্যাগের ধরন ও পরিমাণ জানিয়ে আজই কোটেশনের জন্য আমাদের কল করুন ০১৩২৪২৯৮৩০৯।

কোটেশন নিন

বাংলাদেশে ব্যাগের পাইকারি দাম নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

পাইকারি ব্যাগ কেনার সময় দাম ছাড়াও অর্ডারের পরিমাণ, কাস্টমাইজেশন, লোগো, উপকরণ ও উৎপাদনের সময় নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকে। নিচে ২০২৬ সালে পাইকারি বা কাস্টম ব্যাগ অর্ডারের আগে ক্রেতারা সাধারণত যে বিষয়গুলো জানতে চান, সেগুলোর সংক্ষিপ্ত উত্তর দেওয়া হলো।

পাইকারি ব্যাগের সর্বনিম্ন অর্ডার কত পিস?

সিটিবি ব্যাগ ম্যানুফ্যাকচারারে সাধারণত ৫০ পিস থেকে কাস্টম ও পাইকারি ব্যাগের অর্ডার নেওয়া হয়। তবে ব্যাগের ধরন, নকশা, উপকরণ ও ব্র্যান্ডিংয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী ন্যূনতম অর্ডারের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

৫০০ বা ১০০০ পিস ব্যাগ অর্ডার করলে কি প্রতি পিসের দাম কমে?

অনেক ক্ষেত্রে অর্ডারের পরিমাণ বাড়লে প্রতি পিসের দাম কমতে পারে। কারণ কাপড়, কাটিং, প্রিন্টিং, নমুনা তৈরি ও উৎপাদন প্রস্তুতির কিছু খরচ বেশি সংখ্যক ব্যাগের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়।

নিজের লোগো ও ডিজাইন দিয়ে পাইকারি ব্যাগ তৈরি করা যায়?

হ্যাঁ। কোম্পানি, স্কুল, এনজিও, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান বা প্রচারণার জন্য নিজস্ব লোগো, রং, মাপ, পকেট, প্রিন্ট ও ডিজাইন অনুযায়ী ব্যাগ তৈরি করা যায়। চূড়ান্ত দাম নির্ভর করবে ডিজাইন, উপকরণ ও অর্ডারের পরিমাণের ওপর।

কোন কোন ধরনের ব্যাগ পাইকারি অর্ডার করা যায়?

স্কুল ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, ল্যাপটপ ব্যাগ, অফিস ও কর্পোরেট ব্যাগ, ট্রাভেল ও ডাফল ব্যাগ, টোট ব্যাগ, জুট ব্যাগ, ড্র-স্ট্রিং ব্যাগসহ বিভিন্ন ধরনের কাস্টম ও প্রমোশনাল ব্যাগ পাইকারি অর্ডার করা যায়।

পাইকারি ব্যাগ তৈরি ও সরবরাহ করতে কত সময় লাগে?

সব অর্ডারের উৎপাদন সময় এক নয়। ব্যাগের সংখ্যা, নকশার জটিলতা, উপকরণের প্রাপ্যতা, প্রিন্টিং বা ব্র্যান্ডিং এবং উৎপাদনের চলতি চাপ অনুযায়ী সময় নির্ধারিত হয়। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাগ প্রয়োজন হলে অর্ডারের আগেই সম্ভাব্য উৎপাদন ও সরবরাহের সময় জেনে নেওয়া ভালো।